ডিয়ারবর্ন, ১৪ জানুয়ারি : গতকাল মঙ্গলবার মিশিগানের ডিয়ারবর্নে একটি ফোর্ড কারখানা পরিদর্শনের সময় এক কর্মীর কটূক্তির জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যমা আঙুল তুলে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন এবং মুখে গালি উচ্চারণ করেন। হোয়াইট হাউস এ ঘটনাকে “উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া” বলে মন্তব্য করেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে দ্য ডেট্রয়েট নিউজ এ খবর দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সেলফোন ভিডিওতে দেখা যায়, ডিয়ারবর্নের ফোর্ড এফ–১৫০ প্ল্যান্টের কারখানা ফ্লোর থেকে একজন কর্মী ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করলে তিনি আঙুল তুলে দু’বার “ফাক ইউ” বলেন। এরপর হাঁটতে হাঁটতেই ওই ব্যক্তির দিকে মধ্যমা আঙুল দেখান এবং শেষে হাত নাড়েন।
ভিডিওর ফ্রেমে সেই ব্যক্তি স্পষ্টভাবে দেখা না গেলেও, ট্রাম্পের গালি দেওয়ার ঠিক আগে কাউকে “পেডোফাইল রক্ষাকারী” বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। এটি প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত ফেডারেল তদন্তে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, “একজন উন্মাদ ব্যক্তি প্রচণ্ড রাগে অশালীন ভাষায় চিৎকার করছিল। প্রেসিডেন্ট তার জবাবে একটি স্পষ্ট ও উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।”
ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (ইউএডব্লিউ) লোকাল ৬০০-এর ৪০ বছর বয়সী লাইন কর্মী টিজে সাবুলা নিজেই ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, তিনিই ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে ওই মন্তব্য করেছিলেন। তদন্ত চলাকালীন তাকে সাময়িকভাবে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাবুলা বলেন, “আমার কথার জন্য কোনো অনুশোচনা নেই।” তবে তিনি তার চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দাবি করেন, “বন্ধুদের সামনে ট্রাম্পকে বিব্রত করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার হচ্ছি।”
নিজেকে রাজনৈতিকভাবে স্বতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাবুলা জানান, তিনি কখনো ট্রাম্পকে ভোট দেননি, যদিও অতীতে অন্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন। তার দাবি, ঘটনার সময় তিনি প্রেসিডেন্ট থেকে প্রায় ৬০ ফুট দূরে ছিলেন এবং ট্রাম্প তার কথা “খুব স্পষ্টভাবে” শুনতে পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার বক্তব্য মূলত এপস্টেইন তদন্তে ট্রাম্পের অবস্থানকে লক্ষ্য করেই ছিল।
মিশিগানের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব জানান, ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তাকে অবহিত করা হয়েছে যে সাবুলা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি বলেন,
“এর আগে প্রেসিডেন্ট ওবামার কারখানা সফরের সময়ও কর্মীরা কঠোর মন্তব্য করেছিলেন, কিন্তু তখন কাউকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।”
অ্যান আরবারের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডেবি ডিঙ্গেল বলেন, তিনি ফোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছেন—সাবুলার চাকরির অবস্থা কী এবং তার বাকস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না। “ইউএডব্লিউ কর্মী তার মতপ্রকাশের অধিকার প্রয়োগ করছিলেন,” বলেন ডিঙ্গেল।
ডেট্রয়েট ইকোনমিক ক্লাবে ভাষণ দেওয়ার আগে ট্রাম্প ফোর্ড প্ল্যান্টটি পরিদর্শন করেন। সফরের অন্য অংশে অনেক কর্মীকে প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে ও তার সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায়।
এ সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন ফোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও হেনরি ফোর্ডের নাতি বিল ফোর্ড এবং কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ও সিইও জিম ফারলি। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে ফোর্ড কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
এদিকে, জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত ফেডারেল তদন্ত খারিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি নিজের MAGA সমর্থকদের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ট্রাম্প বরাবরই এই তদন্তকে “প্রতারণা” বলে অভিহিত করে আসছেন।
উল্লেখ্য, ২০০০-এর দশকের শুরুতে সম্পর্ক ছিন্ন করার আগে ট্রাম্প ও এপস্টেইন একই সামাজিক মহলে চলাফেরা করতেন। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত নয়।
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :